চট্টগ্রামে আর গড়াচ্ছে না এবারের বিপিএল। ৩০ ডিসেম্বর স্থগিত হওয়া ম্যাচের প্রভাবেই বদলে গেছে পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র। সূচিতে এসেছে বড় রদবদল—সিলেট পর্ব শেষ হলেই ঢাকায় ফিরছে বিপিএলের বাকি সব ম্যাচ। ফলে মারকাটারি বিপিএল আমেজ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আকস্মিক প্রয়াণে সারা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেই শোকের আবহ ছুঁয়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনকেও—থমকে যায় বিপিএলের চেনা ব্যস্ততা। সাকিব-তামিম, মাশরাফি থেকে শুরু করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অসংখ্য কিংবদন্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। চেয়েছেন দেশবাসীর কাছে দোয়া।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানিয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তে ৩০ ডিসেম্বরের নির্ধারিত ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ৩১ ডিসেম্বর ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা এলেও সেই সিদ্ধান্তে আবারও পরিবর্তন আসে এবং ম্যাচগুলো ৪ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চট্টগ্রামে ম্যাচ আয়োজন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঘটা করেই সিলেট পর্ব দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিপিএল। সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় টুর্নামেন্টের ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও লজিস্টিক জটিলতায় বারবার ভ্রমণের ধকল নিতে আগ্রহ দেখায়নি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এসব বাস্তবতায় বিসিবিও চট্টগ্রামে বিপিএল আয়োজনের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, এবারের বিপিএল থেকে বাদ পড়ল চট্টগ্রাম পর্ব।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মাটিতে নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম সিলেট টাইটান্স এবং ঘরের দল চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে রংপুর রাইডার্সের মাঠে নামার কথা ছিল। তবে সূচিতে পরিবর্তন আসায় নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাচ দুটিই গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
নতুন সূচি অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি থেকে ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটেই অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম পর্বের বাকি ম্যাচগুলো। সিলেট পর্ব শেষে ১৫ই জানুয়ারি ঢাকায় ফিরবে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো। এরপর ১৯ জানুয়ারি শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে আসরের নকআউট পর্বের ম্যাচ।

সবশেষে ২৩ জানুয়ারির ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের। তবে ফাইনালসহ সকল নকআউট ম্যাচের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।