রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইতিহাস গড়ে জয় পেল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল। জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগের দৃঢ়তায় আফগানিস্তান অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে তিন উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড গড়ে যুবারা।
অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের মঞ্চে ২৮৪ রানের লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়সম এক চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টের ৩৬ বছরের ইতিহাসে এত বড় রান তাড়া করে জয়ের কোনো নজির ছিল না। আজ দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে সেই ইতিহাসই বদলে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ২০২৫ এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রেকর্ড ২৮৪ রান তাড়া করে আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়ে অসাধারণ জয় তুলে নেয় আজিজুল হাকিম তামিমের দল।
দুবাইয়ের আইসিসি ক্রিকেট একাডেমি মাঠে টসে জিতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মাহবুব খান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতেই ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ফয়সাল শিনোজাদাকে সঙ্গে নিয়ে ওসমান সাদাত ৬৬ রানের জুটি গড়েন। পরে সামিউন বাসির রাতুলের বলে ৩৪ রানে বিদায় নেন সাদাত। এরপর উজাইরুল্লাহ নিয়াজিকে নিয়ে ৯৩ রানের বড় জুটি গড়েন শিনোজাদা। নিয়াজি ৪৪ রানে ফিরলেও শিনোজাদা খেলেন ৯৪ বলে ১০৩ রানের অনবদ্য ইনিংস। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে আফগানিস্তান তোলে ২৮৩ রান। ফলে বাংলাদেশ পায় পাহাড়সম রানের টার্গেট।

পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে রেকর্ড ভাঙা ছাড়া বাংলাদেশের যুবাদের সামনে আর কোনো পথ ছিল না। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে এত বড় লক্ষ্য আগে কখনো তাড়া করে জয়ের নজির ছিল না। সেই অসম্ভব চ্যালেঞ্জে দৃঢ়তা ও সাহসী ব্যাটিংয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। রান তাড়ায় এই দুই ব্যাটার গড়ে তোলেন দারুণ ১৫১ রানের অনবদ্য জুটি। রিফাত ৬২ রানে ফিরলেও জাওয়াদ এগিয়ে যান সেঞ্চুরির পথে, তবে নার্ভাস নাইন্টিনে থেমে যেতে হয় তাকে—৯৬ রানেই শেষ হয় তার অসাধারণ ইনিংস।
অধিনায়ক তামিম ও কালাম সিদ্দিক অ্যালিনের ব্যাটে ভর করে এগোচ্ছিল বাংলাদেশের ইনিংস। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তারা ভিত শক্ত করেন। তবে দুজনই সাজঘরে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। সেই মুহূর্তে রিজান হোসেন ও শেখ পারভেজ জীবনের কার্যকর ক্যামিওতে জয়ের দৌড়প্রান্তে পৌঁছায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ে তিন উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশর যুবারা।