দাপুটে জয় দিয়েই বিপিএল যাত্রা শুরু করল রংপুর রাইডার্স। নিজেদের প্রথম ম্যাচে চট্রগ্রাম রয়্যালসকে মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিল রংপুর।
বিপিএলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও পুরনো দলগুলোর একটি রংপুর রাইডার্স। পেশাদারিত্বের দিক থেকেও তারা বরাবরই অন্য দলগুলোর চেয়ে বেশ এগিয়ে। দেশি-বিদেশি সব তারকা ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল গঠন করে, প্রতিবারই শিরোপার দাবিদার হিসেবে মাঠে নামে রংপুর। শুধু কাগজে-কলমে নয় মাঠের ক্রিকেটও তা প্রমাণ করে প্রতিনিয়তই। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই চট্টগ্রাম রয়্যালসকে মাত্র ১০২ রানে গুটিয়ে দিয়ে এবং পরে দারুণ ব্যাটিংয়ে সহজ জয় তুলে নিয়ে সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ দিল রংপুর রাইডার্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় তারা। দলীয় মাত্র তিন রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন বিদেশি তারকা ব্যাটার অ্যাডাম রোসিনটন। শুরুটা নড়বড়ে হলেও নাঈম শেখের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চট্টগ্রাম। ২০ বলে ৩৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে তিনি সচল রাখেন রানের চাকা।

তবে নাঈম আউট হতেই ধস নামে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপে। রংপুর রাইডার্সের শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে ব্যর্থ হন একের পর এক ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারেই কোনো মতে শতরান ছুঁয়ে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস।
রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের নায়ক ছিলেন পাকিস্তানি তারকা অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ। ৩.৫ ওভার বল করে মাত্র ১৭ রানে তুলে নেন আসরের প্রথম ফাইফার। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট।
১০২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় কোনো বেগ পেতে হয়নি রংপুরকে। লিটন দাস ও ডেভিড মালানের ৯১ রানের উদ্বোধনী জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। লিটন ৩১ বলে ৪৭ রান করে আউট হলেও মালান তুলে নেন অর্ধশত। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওভার হাতে রেখেই সাত উইকেটের বড় জয়ে বিপিএল যাত্রা শুরু করল রংপুর রাইডার্স।
