দুর্দান্ত ছন্দে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে যেন থামানোর কেউ নেই। নাটকীয় ম্যাচে রাজশাহী ওরিয়র্সকে ২ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে অপ্রতিরোধ্য দলটি।
সিলেটের ওপর চাপটা বোধহয় একটু বেশিই পড়ছে। টানা ম্যাচ আর একই উইকেটে খেলার ধকলে উইকেট এখন টালমাটাল। ফলে পুরো আসরেই ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি কোনো দল। আজও ব্যতিক্রম হয়নি— তবে লো–স্কোরিং ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় লড়াই জমিয়ে তোলে চট্টগ্রাম।
এদিন টসে জিতে চট্টগ্রামের অধিনায়ক মাহাদী হাসান ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহীর শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি, যার প্রভাব পুরো ম্যাচজুড়েই পড়ে। চট্টগ্রামের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ধারাবাহিক আক্রমণে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহীর ব্যাটাররা।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে, রাজশাহী সর্বসাকুল্যে সংগ্রহ করতে পারে মাত্র ১২৮ রান। চট্টগ্রামের হয়ে দারুণ ইকোনমিতে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেন আমির জামাল। এ ছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপকে পুরোপুরি চাপে রাখেন।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দেখে–শুনেই শুরু করে চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। তবে রাজশাহীর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে থাকে তারা। দলীয় চতুর্থ ওভারে এসএম মেহরব নিজের স্পিন ভেলকি দেখিয়ে এক ওভারেই এডাম রসিংটন ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে চট্টগ্রামকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। পরের ওভারেই আঘাত হানেন বিনুরা ফার্নান্দো—পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজশাহী ওরিয়র্স।
২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় চট্টগ্রাম। সেখান থেকে নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচে লড়াইয়ের রসদ জোগান হাসান নাওয়াজ ও অধিনায়ক মাহাদী হাসান। মাহাদী ২৮ রানে ফিরলেও দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন আসিফ আলী, খেলেন ২৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।

আসিফ ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ধরে রাখেন হাসান নাওয়াজ। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬ বলে ১০ রান। শরিফুল ইসলামকে সঙ্গী করে পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নেন নাওয়াজ। প্রথম দুই বলে নেন ২ রান, পরে মেহরবের বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ কমান। শেষ বলে যখন দরকার ২ রান, তখন লং অফে ঠেলে দিয়ে আদায় করে নেন জয়ের রানটি। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে চট্টগ্রামকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হাসান নাওয়াজ।