নাসুম-মঈনের বোলিং ঘূর্ণিতে নাজেহাল রংপুর রাইডার্স। ঘরের মাঠে রংপুরকে ছয় উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হারাল সিলেট টাইটান্স।
নাসুম–মঈনদের বোলিং তোপে রংপুরের ইনিংস যেন শুরুতেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। বল সামলাতে ব্যর্থ হয়ে নিয়মিত বিরতিতে সাজঘরের পথ ধরেন ব্যাটাররা। ফলে বড় সংগ্রহ তো দূরের কথা, পুরো ইনিংস জুড়েই ধুঁকতে থাকা রংপুর শেষ পর্যন্ত আসরে নিজেদের সর্বনিম্ন রানেই থামে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে, ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সিলেটের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে রংপুর। কাইল মায়ার্স এদিনও রানের খাতা না খুলেই ফিরতে বাধ্য হন। দলীয় ছয় রানের মধ্যেই সাজঘরের পথ ধরেন তাওহীদ হৃদয়। পরে লিটন দাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার আভাস দেন, খুশদিল শাহও সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে সেই লড়াই টেকেনি বেশিক্ষণ।

শহিদুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদদের ধারালো বোলিংয়ে পুরোপুরি টালমাটাল হয়ে পড়ে রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং অর্ডার। তার ওপর ঘরের মাঠে ‘ঘরের জামাই’ মঈন আলীর কিপটেমি রংপুরের বিপর্যয়কে আরও গভীর করে তোলে। চার ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন তিনি। ইকোনমি রেটটা ছিল চোখ ধাঁধানো মাত্র ২।
তবে রংপুরের বিপর্যয় চূড়ান্ত রূপ নেয় ৯০ রানের ঘর ছোঁয়ার পরই। ওই পর্যায়েই মুহূর্তের মধ্যে চারটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় দলটি। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ চেষ্টা চালান স্কোরটাকে একটু বড় করার। তবে ২৯ রানেই থামতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন সিলেটের দুই ওপেনার। পারভেজ হোসেন ইমন ও তৌফিক খান তুষারের ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতেই রংপুরের শেষ আশাটুকুও ফুরিয়ে যায়।

এরপর ইমনের অসাধারণ অর্ধশতের ওপর ভর করে সহজেই ১১৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় সিলেট। এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্টস টেবিলের দুইয়ে উঠে গেল তারা। বিপরীতে টানা তিন হারে বিপর্যস্ত রংপুর শিবির, নিজেদের সামর্থ্যের প্রতিফলন মাঠে যে দেখাতে পারছে না তারা।