এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবার নজর কাড়তে বাধ্যই করেছিলেন সাইফ হাসান। সেই ধারাবাহিকতায় সুযোগ পেয়েছেন একের পর এক আন্তর্জাতিক ম্যাচেও। তবে সময়ের সঙ্গে যেন বদলে গেছে চিত্রটা। অফ ফর্মের ঘেরাটোপে পড়ে ব্যাটে রান খরার মুখে সাইফ। প্রশ্ন উঠছে—এই ফর্মহীনতা কি রীতিমতো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্টের জন্য?
এশিয়া কাপে দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি দলের চিত্রটাই বদলে দিয়েছিলেন সাইফ। নান্দনিক সব শটে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ছুটিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন দর্শক–সমর্থকদের। সেই ছন্দ ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতেও দেখিয়েছেন ধারাবাহিকতা, একের পর এক ইনিংসে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ রান।
তবে এবারের বিপিএলটা সাইফ হাসানের জন্য মোটেও স্বস্তির নয়। ফর্মহীনতায় ভুগছেন তিনি, ব্যাটে যেন রানের দেখা নেই। এখন পর্যন্ত ঢাকার জার্সিতে সাইফ খেলেছেন ৭টি ম্যাচ। তবে এই সাত ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ সর্বসাকুল্যে মাত্র ৪৮ রান—পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে কতটা ভয়াবহ সময় পার করছেন তিনি। সর্বোচ্চ ইনিংসটিও থেমেছে ২২ রানে। ফর্ম ফেরাতে মাঝপথে একাদশের বাইরে রাখা হলেও তাতেও বদলায়নি চিত্র। বরং বিরতির পর ফিরে দুর্দশা যেন আরও চেপে বসেছে সাইফের কাঁধে।

সাইফকে ফর্মে ফেরাতে ঢাকা ক্যাপিটালসের চেষ্টারও কমতি ছিল না। ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন বলেন, ‘আমরা তো ওকে ( সাইফ) ফর্মে ফেরাতে সবরকম চেষ্টাই করছি। একটা ম্যাচ বিরতি দিয়ে, ওর মানসিক দৃঢ়তা ঠিক করে আনারও চেষ্টা করেছি। আসলে পারফর্ম তো আর কেউ বলে কয়ে করতে পারবে না। কিন্তু সাইফ নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ফর্মে ফেরার। এখন আমরা শুধু সাপোর্ট করতে পারি, রান তো ওকেই করতে হবে।’
অথচ বিপিএলের আগে সাইফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ১৫ ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে করেছিলেন ৩৯১ রান, এশিয়া কাপেও ছিলেন দলের ভরসার নাম। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে পেয়েছেন সহ-অধিনায়কত্বের দায়িত্ব।
কিন্তু সেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিক দৃঢ়তা ক্রমশই হারিয়ে ফেলছেন সাইফ। একজন ব্যাটারের শক্তির মূল উৎস রান, আর সেটাই আসছে না তার ব্যাট থেকে। এমন ফর্মহীন অবস্থায় বিশ্বকাপে নামলে বাড়তি চাপেই মুখ থুবড়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তাই টিম ম্যানেজমেন্টকে হয়তো ভাবতে হবে—কিভাবে তাকে ফর্মে ফিরানো যায়।
