সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারতের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ক্রিকেট অঙ্গনেও। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এরই মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই সিদ্ধান্তের জেরে বাংলাদেশ সরকার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সব ধরনের খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
আসন্ন আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়ায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার কড়া সমালোচনা করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আহ্বান জানান। শেষ পর্যন্ত সেই আহ্বানের সাড়া দিয়ে সরকারিভাবে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপের মুখে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কলকাতা নাইট রাইডার্স আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দেয়। বিষয়টি সরকারের নজরে এলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সহকারী সচিব ফিরোজ খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই। এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএল-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিসিসিআইয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে জানান, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াকে তারা স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, “প্রত্যেক ক্রিয়ারই প্রতিক্রিয়া থাকে। বাংলাদেশ তাদের সামর্থ্যের মধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এতে ভারত বা আইপিএলে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।”
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আইসিসির কাছে বিকল্প ভেন্যু চেয়ে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের আবেদন করেছে বিসিবি। তবে এ বিষয়ে আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি।
