তাওহিদ হৃদয়ের বিধ্বংসী ৯৭ রানের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত বিফলে গেল । শান্ত-ওয়াসিমের ব্যাটিং তান্ডবে পাত্তাই পেল না রংপুর রাইডার্স। রাজশাহী ওরিয়র্সের চোখ ধাধানো ব্যাটিং প্রদর্শনীর ম্যাচে, সাত উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হেরে বসল রংপুর।
আসরের সেরা ম্যাচের স্বাদই যেন পেলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। নাটকীয়তায় ভরপুর এই লড়াইয়ে কীই বা কম ছিল—তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ব্যাটিংয়ে রানে ফেরা, শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে দলকে এনে দেওয়া লড়াকু পুঁজি। অন্যদিকে শান্ত ও ওয়াসিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রংপুরের বোলারদের অসহায়ত্ব। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা আর দাপুটে পারফরম্যান্সে ভর করা এক ম্যাচ দেখে দর্শকরা চাইলেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলতে পারেন—পয়সা উসুল।
টসে হেরে রাজশাহীর আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর রাইডার্স। এদিন ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে ইনিংসের শুরুটা করেন তাওহীদ হৃদয়, আর সেই পরিবর্তনেই যেন ভাগ্য বদলের আভাস মেলে। কাইল মায়ার্স ব্যর্থ হলেন, লিটন দাসও হাঁটলেন একই পথে।

তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে অবিচল থাকলেন হৃদয়। শেষদিকে খুশদিল শাহর সাথে গড়ে তোলেন অনবদ্য ১০৫ রানের জুটি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে দলকে এনে দেন ১৭৮ রানের লড়াকু পুঁজি। ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস আসে হৃদয়ের ব্যাট থেকে।
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। মাত্র ১৩ রানেই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরে ফিরে যান,যা দলকে চাপের মুখে ঠেলে দেয় এবং সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে।
তবে সেই জটিল সমীকরণকেই সহজ করে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনে রংপুরের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মুহাম্মদ ওয়াসিম মাত্র ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন, অধিনায়ক শান্তও মাত্র ২৮ বলে ফিফটির দেখা পান। আউট হওয়ার আগে শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।

শান্তর বিদায়ের পর জিমি নিশামও দ্রুত ফিরে যান, তবে ওয়াসিম অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। তিনি অপরাজিত থাকেন ৮৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংসে। যা ম্যাচের ভাগ্যই ঘুরিয়ে দেয়।