আসরের প্রথম শ্বাসরুদ্ধকর সুপার ওভার জমে উঠল। জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষরক্ষা হলো না রংপুর রাইডার্সের। রিপন মন্ডলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হাতছাড়া হওয়া ম্যাচই ছিনিয়ে নিল রাজশাহী ওরিয়র্স; আর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে তুলে নিল এক অসাধারণ জয়।
ফর্মের চূড়ায় থাকা রিপন মন্ডল রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের পর বিপিএলেও নিজের দাপট ধরে রেখেছেন। প্রথম ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচে তার ইয়র্কারের ধার ছিল আরও তীক্ষ্ণ। একের পর এক নিখুঁত ডেলিভারিতে ভেঙে পড়েন তারকা ব্যাটাররা। তার বোলিংয়েই রংপুরের সহজ ম্যাচ গড়ায় ড্রয়ে, আর সুপার ওভারে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী ওরিয়র্সকে এনে দেন অবিস্মরনীয় জয়।
এদিন টসে জিতে আগে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় রংপুর রাইডার্স। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে রাজশাহী। দলীয় ১২ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন সাহিবজাদা ফারহান। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী। চার-ছক্কার মেলায় দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ৯৩ রানের অসাধারণ জুটি।
তবে দলীয় ১০৩ রানে শান্তর অপ্রত্যাশিত রানআউটেই ছন্দ হারায় রাজশাহী। সেই সঙ্গে ভেঙে যায় গড়ে ওঠা মোমেন্টাম। এরপর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় আর কোনো বড় জুটি গড়ে ওঠেনি। ফলে ইনিংসের গতি থেমে গিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৯ রানে।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২২ রানের মধ্যেই লিটন দাসের উইকেট হারায় রংপুর। এরপর ডেভিড ম্যালান ও তাওহিদ হৃদয়ের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে সচল থাকে রানের চাকা । ৭২ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান। কিন্তু হৃদয় ৫৩ রান করে আউট হলে ম্যাচে ফেরে নাটকীয়তা।

মালান শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত থাকলেও দলকে নিয়ে যেতে পারেননি জয়ের দ্বারপ্রান্তে। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ রান। কিন্তু খুশদিল শাহ, নুরুল হাসান সোহান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেই সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থ হন। রিপন মন্ডলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।
সুপার ওভারেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন রিপন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে রংপুরকে আটকে রাখেন মাত্র ৬ রানে। জবাবে তানজিদ হাসান তামিম আর ভুল করেননি। চাপ সামলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে এনে দেন রোমাঞ্চকর দারুণ এক জয়।