একসময় ভারতবর্ষকে শাসন করেছিল ব্রিটিশরা। তবে ক্রিকেটের মাঠে সেই ব্রিটিশদেরই একপ্রকার শাসন করল ভারত। ভূরাজনৈতিকভাবে না পারলেও ব্যাট-বলের লড়াইয়ে দাপট দেখাল সূর্যকুমার যাদবের দল। ইংলিশদের নাকানিচুবানি খাইয়ে ৭ রানের জয় তুলে নিয়ে পৌঁছে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে।
এদিন সেমিফাইনালে রেকর্ড ২৫৩ রান তোলে ভারত, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেমিফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইংলিশ ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত অসহায় আত্মসমর্পণ করে আসর থেকে বিদায় নেয় ব্রিটিশরা।
এদিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ভারত। ওপেনার অভিষেক শর্মা ৯ রান করে আউট হন। এরপর ইনিংস সামলান স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৯৭ রান। ইশান ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

দারুণ ব্যাটিং করেন স্যাঞ্জু স্যামসন। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৮৯ রান করে থামতে হয় তাকে। তার ইনিংসটি ছিল আটটি চার ও সাতটি ছয়ে সাজানো। উইল জ্যাকস–এর বলে ফিল সল্ট–এর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তিনি।
দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে চার নম্বরে নামানো হয় শিবম দুবে–কে। তিনি ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব, ৬ বলে করেন ১১ রান।
শেষদিকে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ এবং তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। যার ফলশ্রুতিতে ভারত পায় ২৫৩ রানের পাহাড়সম পুঁজি।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ওপেনার ফিল সল্ট, হার্দিক পান্ডিয়ার বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৫ রান করেই ফিরতে হয় তাকে। এরপর দলনেতা হ্যারি ব্রুকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৬ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ার প্লেতেই আরেকটি উইকেট হারায় ইংল্যান্ড, বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৭ বলে ২৫ রান করেন আরেক ব্যাটার।
তবে তিন উইকেট হারালেও রান তোলার গতি থামেনি ইংলিশদের। পাওয়ার প্লেতে তারা তোলে ৬৮ রান। এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন জ্যাকব বেথেল। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকস। ব্যান্টন ৫ বলে ১৭ এবং জ্যাকস ২০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন। এছাড়া স্যাম কারান করেন ১৪ বলে ১৮ রান।
অন্যদিকে একপ্রান্তে ঝড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান বেথেল। মাত্র ১৯ বলে তুলে নেন অর্ধশতক, পরে সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮ বলে ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল সাতটি চার ও আটটি ছয়। বেথেলের আউটের সব স্বপ্ন ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের। শেষ পর্যন্ত সাত রানের পরাজয় বরণ করে নেয় ইংলিশরা।
