উড়ন্ত ছন্দে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে যেন থামানোর কেউ নেই। হাই স্কোরিং ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ৩০ রানের ব্যবধানে হারিয়ে অপ্রতিরোধ্য দলটি।
আসরের শুরুতে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত দলটি পড়েছিল তীব্র আলোচনা–সমালোচনার মুখে, বাদ যায়নি ট্রলের বন্যাও। তবে সময়ের সঙ্গে পারফরম্যান্সেই সব জবাব দিয়েছে তারা। টুর্নামেন্টের হাই-স্কোরিং ম্যাচে সিলেটকে হারিয়ে পয়েন্টস টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে দলটি। ছয় ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে বর্তমানে পয়েন্টস টেবিলের এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে তারা।
ঘরের মাঠে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট টাইটান্সের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও রোসিংটন। তাদের ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পায় দলটি। নাঈম ১৮ রানে ফিরলেও থেমে থাকেনি চট্টগ্রামের রানের চাকা।

এরপর মাহমুদুল হাসান জয়কে সঙ্গে নিয়ে রোসিংটন গড়েন অনবদ্য ৬০ রানের জুটি। জয় চারটি ছক্কা ও তিনটি বাউন্ডারিতে ২১ বলে ঝড়ো ৪৪ রান করে আউট হলেও রোসিংটন এগোতে থাকেন ফিফটির পথে। তবে ৪৯ রানে রুয়েল মিয়ার বলে কাটা পড়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
শেষদিকে অধিনায়ক মাহাদী হাসানের ১৩ বলে ৩৩ রানের বিধ্বংসী ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ১৯৮ রানের বড় পুঁজি পায় চট্টগ্রাম। সিলেটের হয়ে রুয়েল মিয়া সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন।
১৯৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি সিলেট টাইটান্স। দ্বিতীয় ওভারেই দারুণ ফর্মে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন ফিরে যান সাজঘরে। তাওফিক খান ও আফিফ হোসেন শুরুতে চাপ সামাল দিলেও তাওফিক ২৩ রানে আউট হলে আবার ছন্দ হারায় সিলেট।

এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন আফিফ, তবে তাকে সেভাবে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। আফিফের বিদায়ের পর ইথান ব্রুকসের ১০ বলে ২০ রানের ক্যামিও এবং শেষে মিরাজের সঙ্গে খালেদ আহমেদের ৯ বলে ২৫ রানের ঝলক জয়ের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি।
দুই বল হাতে রেখেই সিলেটকে ১৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে, ১৪ রানের দারুণ জয় পায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই জয়ে চট্টগ্রাম আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে পয়েন্টস টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে।