হারের বৃত্ত ভাঙার কোনো পথই যেন খুঁজে পাচ্ছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একের পর এক পরাজয়ে হার আর নোয়াখালী যেন একই বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওরিয়র্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে সেই হতাশার গল্পই আবারও দীর্ঘ হলো নোয়াখালীর।
হার যেন পিছুই ছাড়ছে না নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। চলতি আসরে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। ছয় ম্যাচে টানা ছয় হারে পয়েন্টস টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে নোয়াখালী। ধারাবাহিক এই ব্যর্থতায় প্রতিটি ম্যাচেই হতাশা বাড়ছে নোয়াখালীর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।
একই সঙ্গে দলটির কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের জন্যও পরাজয়ের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। কোচ হিসেবে তাঁর হতাশাজনক পরিসংখ্যান আরও একবার সামনে এলো—২৯ ম্যাচে তাঁর দলের হার ২৬টিতে, জয়ের দেখা পেয়েছেন মাত্র ৩ ম্যাচে। বিপিএলে কোচ হিসেবে তাই তাঁকে ব্যর্থ সৈনিক বললেও খুব একটা ভুল হবে না।

এদিন টসে জিতে রাজশাহী ওরিয়র্সের অধিনায়ক প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে নোয়াখালীর দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও শাহাদত হোসেন দীপু দারুণ সূচনা এনে দেন দলকে। দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৫৭ রানের কার্যকর জুটি। ব্যক্তিগত ৩০ রানে দীপু ফিরে গেলেও, আসরে নিজের প্রথম অর্ধশত তুলে নেন সৌম্য সরকার।
এরপর অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবিকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন সৌম্য। তবে রাজশাহীর বোলার হাসান মুরাদের বলে ৫৯ রানে কাটা পড়ে সাজঘরে ফিরলে ছন্দ হারায় নোয়াখালী। শেষদিকে আর বড় স্কোর গড়তে না পেরে নোয়াখালীর ইনিংস থামে মাত্র ১৫১ রানে।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওরিয়র্সের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও মোহাম্মদ ওয়াসিম দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন। নোয়াখালীর বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে হাসান মাহমুদের এক ওভারেই তুলে নেন ২২ রান। দুজনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ৪৭ রানের ঝড়ো জুটি।

ব্যক্তিগত ২০ রানে তানজিদ ফিরলেও ওয়াসিম ছিলেন আরও অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৩৫ বলে ৬০ রানের অগ্নিঝরা ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি। দলীয় ১০৫ রানে ওয়াসিম আউট হলেও, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও জিম্বাবুয়ান তারকা রায়ান বার্লের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে চার উইকেট হাতে রেখেই সহজ জয় নিশ্চিত করে রাজশাহী ওরিয়র্স।