উড়তে থাকা রাজশাহী ওরিয়র্সকে হারিয়ে সহজ জয় দিয়েই বিপিএলের যাত্রা শুরু করল ঢাকা ক্যাপিটালস। ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখে ৭ বল হাতে থাকতেই ৫ উইকেটের স্বস্তিদায়ক জয় তুলে নেয় দলটি।
দিনের প্রথম ম্যাচে পদ্মার পাড়ের দল রাজশাহী ওরিয়র্সের বিপক্ষে মাঠে নামে ঢাকা ক্যাপিটালস। টসে জিতে ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুন প্রথমেই বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথম ম্যাচের জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল রাজশাহী ওরিয়র্স। তবে ব্যাটিংয়ে নেমেই শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দলটি। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে, স্বদেশি ইমাদ ওয়াসিম স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান। যা রাজশাহীকে কার্যত চাপে ফেলে দেয়।

অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলীয় ৩৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২০ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর ইয়াসির আলি রাব্বিও ধীরগতির ইনিংস খেলে সাজঘরের পথ ধরলে চাপ আরও বাড়ে রাজশাহীর ওপর। দলের হাল ধরার দায়িত্ব আবারও এসে পড়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাঁধে।
আগের ম্যাচে ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করলেও, এবার শান্ত থামেন ৩৭ রানে। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি; ব্যক্তিগত ২৪ রানে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। শেষদিকে মোহাম্মদ নাওয়াজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করেই কোনো রকমে ১৩২ রানের পুঁজি দাঁড় করায় রাজশাহী।
ঢাকার হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান ইমাদ ওয়াসিম। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচায় তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট, যা রাজশাহীর ব্যাটিং ধসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা ক্যাপিটালস। দলীয় ৫ রানের মাথায় তানজিম সাকিবের বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাইফ হাসান। তবে শুরুতে সেই ধাক্কা বেশ ভালোভাবেই সামাল দেন টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটার আব্দুল্লাহ আল মামুন। চাপের মুহূর্তে বেশ দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ রানের ইনিংস।
মামুন ফিরে যাওয়ার পর নাসির হোসেনের ধীরগতির ব্যাটিং ঢাকাকে কিছুটা চাপে ফেলে দেয়। এক পর্যায়ে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কাও দেখা দেয়। ঠিক তখনই পরিস্থিতির রাশ টেনে ধরেন সাব্বির রহমান। মাঠে নেমেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে ঢাকার জয়ের সমীকরণ সহজ করে দেন তিনি।
মাত্র ১০ বলে দুটি ছয় ও একটি বাউন্ডারির সাহায্যে খেলেন কার্যকরী ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস। একটি বিশাল ছক্কায় ঢাকাকে পৌঁছে দেন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ৭ বল হাতে থাকতেই ৫ উইকেটের স্বস্তিদায়ক জয় নিশ্চিত করে ঢাকা ক্যাপিটালস।
