বৃষ্টিতে ভেসে গেল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা। আর চমক দেখিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিল জিম্বাবুয়ে।
২০০৯ সালের পর আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল ট্রাভিস হেডের দল। এবারের আসরের শোকস্মৃতির থাবা হয়তো হতাশার গল্প হয়ে চিরদিন জায়গা করে নেবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের স্মৃতির পাতায়।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল অজিরা। শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর, প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ধার আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। আসরের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সাফল্যের বদলে জমা হয়েছে শুধু হতাশার অধ্যায়।

হতাশার গল্পটা শুরু হয় সেই জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের মধ্য দিয়ে—যা ছিল পুরো আসরের অন্যতম বড় অঘটন। সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা–মরার লড়াইয়ে মাঠে নামে অজিরা।
কিন্তু সমীকরণটা ছিল কঠিন—শুধু জিতলেই টিকে থাকার আশা। সেই ম্যাচেও ব্যর্থতার বেড়াজালে আটকে পড়ে তারা। ৮ উইকেটের বড় পরাজয় যেন নিশ্চিত করে দেয় ভাগ্যের কঠিন পরিণতি।
শেষ ভরসা ছিল আয়ারল্যান্ড–জিম্বাবুয়ে ম্যাচ। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় পয়েন্টের জটিল হিসাবেই শেষ হয়ে যায় সব আশা। অবশেষে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাড়ির পথ ধরতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।

প্রথমবার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে তিক্ত অভিজ্ঞতাই সঙ্গী হলো ট্রাভিস হেডের। স্বপ্নভঙ্গের এই অধ্যায় হয়তো দীর্ঘদিন পোড়াবে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরকে।
অপরদিকে দারুণ চমক দেখিয়ে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আফ্রিকার এই দলটিকে বাহবা না দিলেই নয়। যে দলটি গত আসরেও বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি, তারাই এবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখিয়েছে দুর্দান্ত লড়াকু মানসিকতা।
অস্ট্রেলিয়ার মতো টেস্ট খেলুড়ে পরাশক্তির চোখে চোখ রাঙিয়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া ছিল তাদের আত্মবিশ্বাসের ছাপ। টানা দুই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে পরের রাউন্ডের টিকিট।

স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে—তারা শুধু বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসেনি, এসেছে নিজেদের ট্রফির যোগ্য দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করতেই।