নুরুল হাসান সোহান একাই যেন বিশ্বকাপের পুরো একটি দলকে হারিয়ে দিলেন। টানটান উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে লিটন দাসের ধূমকেতুকে দুই উইকেটে হারায় দুর্বার একাদশ।
অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ টুর্নামেন্টে দর্শকরা উপভোগ করলেন এক রোমাঞ্চকর লড়াই। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দুর্বার একাদশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখায় দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস। শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করে শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে চমক জয়ের স্বাদ পায় শান্তর দল।
এদিন টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দুর্বার একাদশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ব্যাটিংয়ে নেমেই শুরুতে ধাক্কা খায় ধূমকেতু একাদশ। প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।

তবে শুরুর ধকলটা ভালোভাবেই সামাল দেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। দুজনের জুটিতে ইনিংসে গতি ফেরে। ২০ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাইফ ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন লিটন। অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ৪৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি।
ইনিংসের শেষভাগে শেখ মেহেদী হাসানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শামীম পাটোয়ারীর কার্যকর ক্যামিওতে নির্ধারিত ওভার শেষে ১৫৬ রানের লড়াকু পুঁজি গড়ে তোলে লিটন দাসের ধূমকেতু।
১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দুর্বার একাদশ। মাত্র ২০ রানেই হারিয়ে বসে তিন উইকেট। একে একে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, হাবিবুর রহমান সোহান ও আফিফ হোসেন।

দলীয় ৪৬ রানে মাহমুদুল হাসান জয় ফিরে গেলে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় দুর্বার একাদশ। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি লিটন দাসের ধূমকেতুর হাতে। ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন ম্যাচের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন নুরুল হাসান সোহান।
ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে একাই লড়াই চালিয়ে যান সোহান। সাইফুদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের মোড় ঘোরান তিনি। শরিফুল ইসলামের এক ওভারেই হাঁকান ২৬ রান—সেই ওভারেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ধূমকেতু।
৪৪ বলে ৭৬ রানের দুর্দান্ত ও লড়াকু ইনিংস খেলে সোহান আউট হলেও শেষ পর্যন্ত দুই উইকেটের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুর্বার একাদশ।
