শেষবার ইংল্যান্ড যখন টি-টোয়েন্টি খেলেছিল, তখন হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার মিলে ২৩৩ রানের জুটি গড়ে ভারতকে বিপর্যস্ত করেছিলেন। সাউদাম্পটনে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড তুলেছিল ২৫৭ রান। মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক ও সাবেক অধিনায়ক মিলে গড়লেন ১২৮ রানের জুটি। তাদের ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ২৫৪ রান তোলে ইংল্যান্ড। পরে বোলারদের দাপটে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট করে ১১৯ রানের বিশাল জয় পায় স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
হাতে ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন ব্রুক। মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, যা তার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অন্যদিকে বাটলার ৪৪ বলে করেন ৮০ রান। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন শ্রীলঙ্কার বোলাররা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ইংল্যান্ড। অভিষিক্ত অ্যানিউরিন ডোনাল্ড প্রথম ওভারেই মহীশ তীক্ষণাকে একটি ছক্কা ও চার মারেন। এরপর দুশমন্ত চামিরাকে টানা চারটি বাউন্ডারি হাঁকান বাটলার। ডোনাল্ড বেশিক্ষণ টিকতে না পারলেও ব্রুক ক্রিজে আসার পর শুরু হয় আসল তাণ্ডব।
পাওয়ারপ্লেতে ৯০ রান তোলে ইংল্যান্ড। এর মধ্যে ডানিথ ওয়েলালাগের করা পঞ্চম ওভারেই আসে ৩০ রান। ওই ওভারে ব্রুক তিনটি ছক্কা ও তিনটি চার মারেন। ষষ্ঠ ওভারে আসে আরও ১৮ রান। ৪৫ রানে জীবন পাওয়া বাটলার পরে তুলে নেন ফিফটি। ২০ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন ব্রুক এবং শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেন।
জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দুই ওভারে মাত্র ছয় রান আসে। চতুর্থ ওভারে জ্যাকসের বলে পাথুম নিশাঙ্কা আউট হওয়ার পর আরও চাপে পড়ে সফরকারীরা। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে সনি বেকার পরপর দুই উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান তাড়ার মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। পরে একের পর এক উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে ১৩৫ রানে অলআউট হয় তারা।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন ওয়েলালাগে। ইংল্যান্ডের বেকার ১২ রানে ৩ উইকেট, জেমি ওভারটন ২০ রানে ২টি এবং লিয়াম ডসন ২৩ রানে ২টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২৫৪/৪, ২০ ওভার (হ্যারি ব্রুক ১১৪*, জস বাটলার ৮০, উইল জ্যাকস ২১)
শ্রীলঙ্কা: ১৩৫ অলআউট, ১৯ ওভার (ডানিথ ওয়েলালাগে ৩৩; সনি বেকার ৩/১২, জেমি ওভারটন ২/২০, লিয়াম ডসন ২/২৩)
ফল: ইংল্যান্ড ১১৯ রানে জয়ী।