ওয়ানডে অভিষেকেই ইতিহাস গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার জর্ডান হারম্যান। নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন এই ব্যাটার। তবে তার এই ঐতিহাসিক ইনিংসটি আরও আগেই শেষ হয়ে যেতে পারত। ডিআরএস না থাকায় রানআউটের সিদ্ধান্ত থেকে বেঁচে যান তিনি।
বুধবার উইন্ডহোকে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম ওয়ানডেতে ঘটনার শুরু দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ১৬তম ওভারে। ম্যাক্স হেইঙ্গোর বলে মিড-অফে শট খেলে সিঙ্গেলের জন্য দৌড় দেন হারম্যান। ফিল্ডারদের সরাসরি থ্রোয়ে নন-স্ট্রাইকার প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে যায়। আম্পায়ার তাকে নট আউট দেন। তবে রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, হারম্যান ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই স্টাম্প ভেঙে গিয়েছিল।
সিরিজে ডিআরএস প্রযুক্তি না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। পরে নিজেই বড় পর্দায় রিপ্লে দেখে নিজের ভুল বুঝতে পারেন হারম্যান। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ইনিংসকে আরও বড় করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ১২৬ বলে ১৫০ রান করেন হারম্যান। তার ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও তিনটি ছক্কা। টনি ডি জর্জির সঙ্গে ১৬৭ বলে ১৯০ রানের বড় জুটি গড়েন তিনি। ডি জর্জি করেন ৭২ রান। এরপর ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সঙ্গে ৪৫ বলে ৫৮ রানের জুটিও গড়েন হারম্যান।
৪২তম ওভারে রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। তার ১৫০ রান দক্ষিণ আফ্রিকার মোট ৩৪৮/৬ সংগ্রহের প্রায় অর্ধেক।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডেতে ১৫০ রান করেছিলেন ম্যাথিউ ব্রিটজকি। হারম্যানের ১৫০ সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে।

ম্যাচ শেষে হারম্যান জানান, বড় পর্দায় তিনি দেখেছিলেন যে ক্রিজ থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলেন। এরপর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংসকে বড় করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে নামিবিয়াকে ৩১ ওভারে ২৬২ রানের লক্ষ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৮ উইকেটে ১৬২ রান করে নামিবিয়া। প্রেনেলান সুব্রায়েন ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় থাকবে ডিআরএসের অনুপস্থিতিও—যে প্রযুক্তি থাকলে হারম্যানের ঐতিহাসিক ১৫০ রান হয়তো শুরুতেই থেমে যেতে পারত।