এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিলেন নিগার সুলতানা। তবে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বড় হারের পর সেই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক। বোর্ডের কাছ থেকে যথেষ্ট সমর্থন না পাওয়ার কারণে নয়, বরং ব্যাটিংয়ে আরও মনোযোগ দিতেই টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর নিগার বলেন, ‘আমি কষ্ট পেয়েছি বলে দায়িত্ব ছেড়েছি—এটা পুরোপুরি ভুল। একজন ব্যাটার ও খেলোয়াড় হিসেবে দেশের এবং দলের জন্য আমার আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। আমি সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই। এ কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং ধসের জন্য নিজেদেরই দায় দেখছেন নিগার। তার মতে, একজন টপ অর্ডার ব্যাটারও যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারতেন, তাহলে স্কোরটা আরও বড় হতে পারত। একই উইকেটে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৭ রান করেছিল বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

কোরোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ভারত। মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন শেফালি ভার্মা। জবাবে শুরু থেকেই চাপে থাকা বাংলাদেশ ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের প্রস্তুতির ঘাটতিও উঠে এসেছে নিগারের কথায়। বৃষ্টির কারণে অনুশীলন ব্যাহত হওয়ায় জাপানে মাত্র দুই দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে দল। চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়, আর পরিকল্পনায় থাকা প্রস্তুতি ম্যাচটিও শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।
নিগার বলেন, ‘এখানে আমাদের কার্যত কোনো অনুশীলন সুবিধাই নেই। চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারলে পুরো দলের জন্য ভালো হতো। কিন্তু সেই সুযোগও আমরা হারিয়েছি। সব মিলিয়ে পুরো দলই খুব বাজে ক্রিকেট খেলেছে।’

স্বর্ণপদকের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী নিগার। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে সেটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ ম্যাচ।