নাসির হোসেনের ব্যাটিং তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে, নোয়াখালীকে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ঢাকা ক্যাপিটালস।
ধুঁকতে থাকা নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দেননি নাসির হোসেন। ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলে, নোয়াখালীর বোলিং আক্রমণকে একপ্রকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন তিনি। মাত্র ২১ বলেই তুলে নেন আসরের দ্রুততম অর্ধশত। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে দুর্দান্ত ৯০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন নাসির হোসেন । পেয়েছিলেন সেরা ফিনিশারের তকমাটাও। তারকা খ্যাতি ও সাফল্যের মাঝেই নানা বিতর্ক, অফফর্ম ও ব্যক্তিগত জটিলতায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেন তিনি। তবে হাল ছাড়েননি নাসির। প্রিয় ক্রিকেটে নিজেকে আবারও মেলে ধরতে দিতে চাইলেন সামর্থ্যের প্রমাণ। আর মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন এবারের বিপিএল।

এর আগে চার ম্যাচে মাত্র একটিতে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। দ্বিতীয় জয়ের খোঁজে তাদের সামনে প্রতিপক্ষ ছিল ছন্দহীন নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ম্যাচটিতে বল হাতেও দারুণ ছাপ রাখেন নাসির। স্পিন ভেলকিতে নোয়াখালীর ব্যাটারদের কোণঠাসা করেন তিনি । তিন ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন মাজ সাদাকাতের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাশাপাশি ঢাকার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নোয়াখালীর ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৩৩ রানে।
১৩৪ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা ক্যাপিটালস। মাত্র ১৪ রানেই দুই উইকেট হারায় তারা। ঠিক তখনই মাঠে নামেন নাসির হোসেন। দলের উপর থাকা চাপকে একের পর এক বাউন্ডারিতে উড়িয়ে দিয়ে তিনি দেখালেন নিজের সক্ষমতার ছাপ। নিজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মুহূর্তের মধ্যেই আদায় করে নিলেন এবারের বিপিএলের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি।
শেষ পর্যন্ত নাসির হোসেনের ইনিংস দাঁড়াল ৫০ বলে দুর্দান্ত ৯০ রানের। ১৮০ স্ট্রাইকরেটে খেলা এই ইনিংসে তিনি ১২টি চতুর্মুখী বাউন্ডারি, আর দু’টো ছক্কা হাঁকান। যেন একা হাতেই তুলে নিয়েছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের দ্বিতীয় জয়। একেবারে জাত ফিনিশারের মতই তিনি খেলে গেছেন পুরোটা সময়জুড়ে।
